নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, সেই বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি ৪৮ শতাংশেরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে জরিপ কাকে ভোট দিতে চায় তা বলতে রাজি হয়নি ১৪ দশমিক চার শতাংশ মানুষ।
ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা বিআইজিডি’র জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের মূল্যায়ন, সংস্কার, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা নিয়ে’ জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জরিপের ফল তুলে ধরেন বিআইজিডির ফেলো অব প্র্যাক্টিস সৈয়দা সেলিনা আজিজ। তিনি জানান, জরিপের জন্য গ্রাম ও শহরের নানা শ্রেণি-পেশার ৫ হাজার ৪৮৯ জন মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ৫৩ শতাংশ পুরুষ, ৪৭ শতাংশ নারী; ৭৩ শতাংশ গ্রামের ও ২৭ শতাংশ শহরের। জরিপে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, চলমান সমস্যা, সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে টেলিফোনে প্রশ্ন করে মতামত জানতে চাওয়া হয়। গত ১ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত সময়ে এই জরিপ চালানো হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে , অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর ভোট নিয়ে দলটির সমর্থকদের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে ভোট দিলে তা বিতর্কিত ছাড়া আর কিছুই হবে না। কারণ দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষই ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।
বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে, এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল বিআইজিডির জরিপে। এর উত্তরে ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন দেশ রাজনৈতিকভাবে সঠিক পথে আছে আর ৪৫ শতাংশ মানুষের মত হলো দেশ অর্থনৈতিকভাবে সঠিক পথে আছে। গত বছরের অক্টোবরে ৫৬ শতাংশ মানুষ বলেছিলেন দেশ রাজনৈতিকভাবে সঠিক পথে আছে আর ৪৩ শতাংশ বলেছিলেন অর্থনৈতিকভাবে সঠিক পথে আছে। অর্থাৎ দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে আশাবাদ সামান্য বেড়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তা কমেছে।
জরিপে বলা হয়, যারা ভোট দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ১২ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে, ১০ দশমিক চার শতাংশ মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে, সাত দশমিক তিন শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে এবং দুই দশমিক আট শতাংশ মানুষ এনসিপিকে ভোট দিতে চান বলে জানিয়েছেন।
এখানেও সরকারের সমর্থনে গঠিত কিংসপার্টি হিসেবে খ্যাত এনসিপির চেয়ে জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ। বিশ্লেষকদের মতে, দলটির চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপকর্মের কারণে জনসমর্থন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দলের সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়া স্বাভাবিক। এ অবস্থায় নির্বাচন হলে তা গণতান্ত্রিক স্বীকৃতি পাবে না এবং তা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করবে। ভোটারদের এত বিশাল অংশ যখন সিদ্ধান্তহীন, তখন সরকারের উচিত একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন পরিবেশ সৃষ্টি করা।
মন্তব্য করুন